শীতে মাথা যন্ত্রণার হাত থেকে মুক্তি পেতে পরামর্শ
কাজকেরিয়ার অনলাইন নিউজ ডেস্ক: শীতকালে বেড়ে যেতে পারে মাথা যন্ত্রণার সমস্যা। কীভাবে শীতে মাথা যন্ত্রণার হাত থেকে মুক্তি পাবেন,তার গাইড দেওয়া যেতে পারে। শীতে অনেকেরই ঠাণ্ডা লাগা, মাথা যন্ত্রণা সহ নানা সমস্যা বেড়ে যেতে পারে। এই সমস্যা আরও বেড়ে যেতে পারে মাইগ্রেনের সমস্যা থাকলে। আবার সাইনাসের জন্যও তা বাড়তে পারে। এই সময়ে মাথা বা গলা ঢাকা দিয়ে রাখতে বলা হয়। এতে কী উপকার পাওয়া যায়।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বা গবেষকরা বলছেন, শীতকালে মাথা যন্ত্রণা বা মাথা ব্যথা হওয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়। এর কারণ হিসেবে তাঁদের বক্তব্য, শীতকালে সূর্য কম সময় পর্যন্ত থাকে। রোদও কম সময় পাওয়া যায়। অ্যাটমোস্ফেরিক প্রেসার -এ পরিবর্তন আসে। যার ফলে হেমোডায়নামিল বা শরীরের ভিতরে রক্তচাপে পরিবর্তন হয়। এক্ষেত্রে মাথা যন্ত্রণা ও শীতকালীন মাইগ্রেনের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অন্যদিকে খুব ঠাণ্ডা পড়লে, ঠাণ্ডা হাওয়াতে নার্ভ ও ব্রেনে প্রভাব ফেলতে পারে। যার ফলে মাথা যন্ত্রণা হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়।
সাইনাস শরীরে একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। বায়ু চলাচলে এটি সাহায্য করে থাকে। নাকের দুই পাশে ও চোখের তলার হাড়ে আর চোখের উপরের দুই অংশ জুড়ে এটি অবস্থিত। সাইনাস হল ফাঁকা গহ্বর বা গর্ত বিশেষ। এটি ভিতর থেকে মিউকাস মেমব্রেন বা শ্লেষ্মা ঝিল্লি নামে একটি চামড়ার সঙ্গে যুক্ত থাকে। এই শ্লেষ্মা ঝিল্লি ইনফেকশন হয়ে বা এতে অ্যালার্জি হয়ে সাইনাস ব্লকেজ তৈরি করতে পারে। যার ফলে মাথা যন্ত্রণা, চোখে তলার অংশে যন্ত্রণা হওয়া স্বাভাবিক।
ছোট-বড় সবারই মাথা যন্ত্রণা হতে পারে। কীভাবে শীতে মাথা যন্ত্রণার হাত থেকে মুক্তি পাবেন তা জানানো হল। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বা গবেষকদের মতে, শীতকালে মাথা ঢেকে রাস্তায় বের হওয়া উচিত। এর বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা হল – কিছু দিয়ে ঢেকে রাখলে মাথা যন্ত্রণা কম হতে পারে। আবার গলা ও কাঁধের পেশিকে আরাম দিতে হবে। রক্ত চলাচল যাতে শরীরে ঠিক থাকে তা দেখতে হবে। এই পেশিগুলির একটু ব্যায়াম বা মাসাজে উপশম পাওয়া যায়। প্রতিদিন ৮ ঘণ্টা ঘুমোতে হবে। ঘুমানো ও ঘুম থেকে ওঠার একটা নির্দিষ্ট পদ্ধতি মেনে চলতে হবে। ঘর গরম রাখাটাও জরুরি। দিনে কমপক্ষে ২ বার ভাপ বা স্টিম নিলে সাইনাস পরিষ্কার থাকবে। এতে সাইনাসের যন্ত্রণা হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে।
মুখের বিভিন্ন অংশ মাসাজ করলে ভালো লাগতে পারে। পাশাপাশি এটি সাইনাসও পরিষ্কার করে দিতে পারে। ফলে মাথা যন্ত্রণা কমে যাবে। শীতে একটু গরম জলে স্নান করলে ভালো হয়। এরফলে পেশি সচল থাকে। অতিরিক্ত গরম জলে শরীর খারাপ হতে পারে। বেশিক্ষণ গরম জলে স্নান করা চলবে না। শীতকালে জল- পিপাসা কম পায় । ফলে জল খাওয়া কমে যায়। এতে শরীরে নানা সমস্যা দেখা যায় । জলের অভাবে মাথা যন্ত্রণাও হতে পারে। এই সময় জল খাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হলুদ মেশানো দুধ বা আদা দেওয়া চা খেলে ভালো। গরম চা শরীর গরম রাখে ভিতর থেকে। ফলে দ্রুত ঠাণ্ডা লাগার প্রবণতা কমে ও শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়াতে সাহায্য করে। মাইগ্রেন থাকলে চিকিৎসকদের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

